ক্রেডিট কার্ডে গ্রেস পিরিয়ড কী? | What is Grace Period in Credit Cards?

ক্রেডিট কার্ডে গ্রেস পিরিয়ড কী? | What is Grace Period in Credit Cards?


ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে গ্রেস পিরিয়ড সম্পর্কে অনেক ক্রেডিট কার্ড হোল্ডারগন প্রাথমিকভাবে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকার ফলে অযাচিত ইন্টারেস্ট এবং চার্জের সম্মুখীন হয়ে থাকেন। আজকের এই পুরো বিষয়বস্তু জুড়ে আমরা আলোচনা করব এই গ্রেস পিরিয়ড সম্পর্কে। 

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে গ্রেস পিরিয়ড হলো এমন একটি সময়সীমা, যেখানে আপনি নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে বিল পরিশোধ করলে ইন্টারেস্ট ছাড়াই টাকা ফেরত দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এই সময়সীমা সাধারণত ১৫ থেকে ৪৫/৫০ দিন হয়ে থাকে, যা আপনার কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করে।

গ্রেস পিরিয়ড কিভাবে কাজ করে?

উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আপনার বিলিং সাইকেল মাসের ৫ তারিখ থেকে পরবর্তী মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত। অর্থাৎ বিলিং মাসের শেষের দিন বা ৪ তারিখ আপনার বিল জেনারেট হবে। এরপর আপনি বিল পরিশোধের জন্য সময় পাবেন সাধারণত আরো ১৫ দিন । এই পিরিয়ডের আপনার ক্রেডিট কার্ডের সর্বশেষ জেনারেটকৃত টোটাল ডিউ যদি সম্পূর্ণ রুপে পরিশোধ করে দেন তাহলে আর কোন ইন্টারেস্ট আরব হবে না। আর এই ইন্টারেস্ট মুক্ত যে সময়কাল এ সময় কালকেই গ্রেস পিরিয়ড বলা হয়।

ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কৌশলগত প্রচারণা ৪৫ দিন পর্যন্ত ইন্টারেস্ট ফ্রি প্রকৃত অর্থে এর বাস্তবতা কী? 

ব্যাংকগুলো যখন বলে “৪৫ দিন পর্যন্ত ইন্টারেস্ট ফ্রি”, তখন তারা মূলত গ্রেস পিরিয়ডের সর্বোচ্চ সীমাটিকে হাইলাইট করে, কিন্তু বাস্তবে এই সময়সীমা নির্ভর করে আপনার লেনদেনের তারিখের উপর। সাধারণত প্রতিটি ক্রেডিট কার্ডের একটি নির্দিষ্ট বিলিং সাইকেল থাকে—যেমন প্রতি মাসের ১ তারিখ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত। আপনি যদি মাসের একেবারে শুরুতে (যেমন ১ তারিখে) কোনো কেনাকাটা করেন, তাহলে সেই লেনদেনের বিল তৈরি হবে ৩০ তারিখে এবং এরপর আরও প্রায় ১৫-২০ দিন সময় পাবেন বিল পরিশোধের জন্য—ফলে আপনি ৪৫/৫০ দিন পর্যন্ত ইন্টারেস্ট ফ্রি সুবিধা পাবেন। কিন্তু যদি আপনি মাসের একেবারে শেষ দিকে (যেমন ২৯ বা ৩০ তারিখে) কেনাকাটা করেন, তাহলে বিল তৈরি হয়ে যাবে এক-দুদিনের মধ্যেই এবং তখন আপনার হাতে থাকবে মাত্র ১৫-১৮ দিন মতো সময়—অর্থাৎ ইন্টারেস্ট ফ্রি সময় তখন অনেক কমে যাবে। তাই “৪৫/৫০ দিন পর্যন্ত” বলতে সর্বোচ্চ ৪৫/৫০ দিন বোঝানো হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি ১৫ দিন থেকে ৪৫/৫০ দিন এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

পেমেন্টের ধরন ও ইন্টারেস্টের প্রভাব

সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ এতে করে নিম্নবর্নত সুবিধা গুলো উপভোগ করতে পারবেন:

▣ কোনো ইন্টারেস্ট প্রযোজ্য হবে না।

▣ গ্রেস পিরিয়ড বজায় থাকে

▣ পজিটিভ ক্রেডিট হিস্টোরি গঠিত হয়

মিনিমাম ডিউ পেমেন্ট

অবশিষ্ট আউটস্ট্যান্ডিং এর উপর উচ্চ হারে ইন্টারেস্ট প্রযোজ্য হয়। যার ফলশ্রুতিতে:

▣ ভবিষ্যতে গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়ে যেতে পারে

▣ ডিউ বাড়তে থাকে, ঋণ বেড়ে যায়

স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স পরিশোধ

▣এটি হলো পুরো বিলিং সাইকেলের খরচ

▣সময়মতো পরিশোধ করলে গ্রেস পিরিয়ড থাকে এবং ইন্টারেস্ট আসে না।

গ্রেস পিরিয়ডে ইন্টারেস্ট ছাড় পেতে কী করবেন?

▣ প্রতিটি মাসে স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স সময়মতো পরিশোধ করুন

▣ মিনিমাম পেমেন্টে করলে আপনার কার্ড স্ট্যাটাস সচল থাকবে কিন্তু, গ্রেস পিরিয়ড থাকবেন না।

▣ নতুন কেনাকাটা করলে সেটার জন্য আলাদা করে গ্রেস পিরিয়ড শুরু হয় না, পুরনো ব্যালেন্স পরিশোধ করতেই হবে।

কেন গ্রেস পিরিয়ড বুঝে ব্যবহার করবেন?

▣ আপনি মাসের কিছু দিনের জন্য বিনামূল্যে অর্থ গ্রহণ করার বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।

▣ নিয়মিত সময়মতো পরিশোধ করলে ইন্টারেস্ট ছাড়াই লেনদেনের অভ্যাস তৈরি হয়।

▣ ইন্টারেস্ট এর বোঝা থেকে বাঁচা যায়, ঋণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সুতরাং, গ্রেস পিরিয়ড বুঝে ব্যবহার করা একজন সচেতন কার্ডধারীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সময়মতো সম্পূর্ণ বিল পরিশোধের অভ্যাস গড়ে তুললে আপনি শুধু ইন্টারেস্ট থেকে নয়, আর্থিক চাপ থেকেও নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।


এস এম শামীম হাসান 
জনসংযোগ কর্মকর্তা, ব্যাংকিং কিউএ 

নবীনতর পূর্বতন